পড়ো-২

New -30% পড়ো-২

ধরুন, আপনি সিদ্ধান্ত নিলেন যে, আপনি কাজের পাশাপাশি সন্ধ্যায় ইউনিভারসিটি গিয়ে পার্টটাইম মাস্টার্স বা পিএইচডি করবেন। আপনার পরিবার আপনার এই সিদ্ধান্ত শুনে বড়ই খুশি হবে। বংশে একজন মাস্টার্স/পিএইচডি করা ছেলে/মেয়ে থাকবে, কী সৌভাগ্যের ব্যাপার! ক্লাসে যাওয়ার আগে আপনার জন্য নাস্তা টেবিলে রাখা থাকবে। ক্লাস করে এসে আপনি যেন শান্তিতে ঘুমোতে পারেন, সেজন্য বাচ্চাদের আগেই ঘুম পাড়িয়ে রাখা হবে। মেহমানরা বেড়াতে এসে যেন আপনার পড়াশুনায় ক্ষতি না করে, সেজন্য চৌদ্দগুষ্টিতে সাবধান নোটিস চলে যাবে। কেউ যদি এসেও পড়ে, আপনি দেখা করতে না আসলে কোনো সমস্যা নেই, কারণ আপনার পরীক্ষা চলছে। আপনার পরীক্ষার সময় বাড়িতে কারফিউ পড়ে যাবে। কেউ ফোনে গল্প করবে না। কিছুক্ষণ পরপর চা, নাস্তা আসতে থাকবে। আপনাকে যথাসাধ্য সবরকম শান্তির ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে। একসময় আপনি মাস্টার্স/পিএইচডি শেষ করবেন। আপনার স্বামী-স্ত্রী-বাবা-মা গর্ব করে সবার কাছে আপনার অর্জনের কথা বলবে।

.

কিন্তু ধরুন, আপনি সিদ্ধান্ত নিলেন যে, কাজের পাশাপাশি একটা ইসলামিক ডিগ্রির জন্য পড়াশুনা করবেন, বা এলাকার মুসলিম ভাইবোনদের সাথে নিয়মিত ইসলামি আলোচনায় অংশ নেবেন, বা কোনো স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনে যোগ দেবেন। আপনার পরিবারের সদস্যরা এই কথা শোনার পর আপনার ওপর শুরু হবে তাদের যাবতীয় দাবি এবং অভিযোগের বৃষ্টি। এমনিতেই কাজের বাইরে আপনাকে কম পাওয়া যায়, এখন কেন আরও কম পাওয়া যাবে? যেই কাজ করতে আপনি বাধ্য নন, কেন আপনি সেই কাজের পিছনে এত সময় দেবেন? এগুলো না করে শুধু সালাত-সাওম করলে ক্ষতি কী হবে? আমরা কী মুসলিম না? এগুলো না করলে কি জান্নাতে যাওয়া যায় না?

.

—এরকম হাজারো প্রতিকূলতার মধ্যে আপনি কোনোমতে সবাইকে দিনের পর দিন ম্যানেজ করে, নিয়মিত তাদের কটু কথা শুনে হয়তো সপ্তাহে একদিন, দু’দিন করে ইসলামের জন্য পড়াশুনা করবেন। কোনো ইসলামি আলোচনা, সেচ্ছাসেবী কাজে মাসে এক-দুইবার অংশ নেবেন। কিন্তু আপনার এই কাজে সাহায্য করার জন্য কেউ ফোনে গল্প করা বন্ধ করবে না, আপনার পড়ার সময় বাচ্চাগুলোকে অন্য ঘরে খেলতে নিয়ে যাবে না। নিজে উঠে চা, নাস্তা বানিয়ে খেতে হবে। আপনার পরীক্ষাই চলুক, কোনো জরুরি প্রোগ্রামই থাকুক, বা শীতার্তের মাঝে কম্বল বিতরণের দায়িত্বই থাকুক না কেন। বাসায় কোনো মুরব্বি আত্মীয় আসলে, শ্বশুর-শাশুড়ি আসলে, বাচ্চাদের পরীক্ষা চললে কেউ আপনাকে একটুও ছাড় দেবে না। আপনাকে তখন সব বাদ দিয়ে সামাজিকতা করতে হবে।

.

বরং যখন আপনার পড়াশুনার বেশি চাপ যাবে, বা ইসলামি কাজে একটু বেশি সময় দিতে হবে, তখনি আপনার কাছের জনের মাথা বেশি গরম হয়ে যাবে। নিয়মিত ঝগড়া শুরু হবে। আত্মীয়স্বজন আপনাকে ফোন করে আবার ‘সাধারণ মুসলিম’ হয়ে যাওয়ার জন্য বারবার বোঝাবে। কবে কোন মুসলিমকে পুলিশ ধরে নিয়ে গিয়েছিল, জেলে নিয়ে কীভাবে পায়ের নখ তুলে নির্যাতন করেছিল, কোন ইসলামি দল কবে কোন নিরীহ মুসলিমকে ঘোল খাইয়েছিল —এই সব বলে আপনাকে নিয়মিত ভয় দেখাবে।

.

এইসব হাজারো ঝড়-ঝাপটা, প্রতিকূলতার মধ্যেও দাঁতে দাঁত চেপে ধৈর্য ধরে প্রতিদিন হাসিমুখে চেষ্টা করে যাওয়া খুবই কঠিন ব্যাপার। এত যন্ত্রণা সহ্য করার জন্য প্রশস্ত অন্তর দরকার। অন্তরের প্রশস্ততা না থাকলে, অল্পতেই মানুষ প্রতিক্রিয়া দেখায়। মানুষের সাথে ঝগড়া শুরু হয়ে যায়। দিনের পর দিন এত অন্যায়, অবিচার সহ্য করতে না পেরে বুক ভেঙ্গে যায়। তারপর একসময় ইসলামের পথ থেকে তারা ঝরে যায়। 

.


পড়ো-২—
লেখক : ওমর আল-জাবির;
পৃষ্ঠা সংখ্যা : ১৮৪

Write a review

Note: HTML is not translated!
    Bad           Good

0 Product(s) Sold
  • ৳280.00
  • ৳196.00
  • Ex Tax: ৳196.00

Tags: পড়ো-২