দুআ কবুলের গল্পগুলো

-30% দুআ কবুলের গল্পগুলো
গল্পঃ ৩২ বছরে ৩২ হাজ্জ্ব 

মিশর। ঘটনাটা এমন একজন মানুষের যিনি আজ থেকে ৩২ বছর আগে তার যৌবনকালে একবার হজ্জ্ব করে ছিলেন। যৌবনকালের সে সময়ের ঘটনাটা এরকম - 
.
তিনি তখন নয় সীটের একটা গাড়ী চালাতেন। একদম সামনের সীটে এক দম্পতি বসা ছিল। আর তাদের পিছনের সীটে প্রচণ্ড চাপাচাপিতে বসা ছিল এক বয়স্ক বৃদ্ধা মহিলা। বয়সের ভারে তার শারীরিক অবস্থা এতটাই নাজুক ছিল যে সে ঠিকমত বসে থাকতেও পারছিল না। এ দৃশ্য দেখে তিনি সামনের সীটে বসে থাকা লোকটিকে অনুরোধ করেছিলেন যেন সে বৃদ্ধা মহিলাটিকে তার সীটে বসতে দেয় আর সে গিয়ে মহিলার সীটে বসে। বৃদ্ধা মহিলাটি যেন পা-ছড়িয়ে একটু আরাম করে বসতে পারে – তাই তিনি এই অনুরোধটুকু করেছিলেন।
.
কিন্তু সামনের সীটের ভদ্রলোক রাজী হলো না। তিনি আবারো অনুরোধ করলেন, বেশ কয়েকবার অনুনয়-বিনয় করার পর ভদ্রলোক বাধ্য হলেন সিট পরিবর্তন করার জন্য। তিনি গিয়ে বসলেন পিছনের সীটে আর বৃদ্ধা মহিলা এসে একটু আরাম করে বসল তার স্ত্রীর পাশে সামনের সীটে। যখন বৃদ্ধা মহিলা তার পা দু’টি ছড়িয়ে আরাম করে বসতে পারল তখন সে তার জন্য প্রাণভরে দু’আ করল। বৃদ্ধা মহিলা তার আঞ্চলিক ভাষায় যে দু’আটি করেছিল যার অর্থ ছিল, “আল্লাহ্‌ যেন তোমাকে প্রতিবছর হাজ্জ্ব করায় বাবা” 
.
সুবাহানাল্লাহ! তিনি আজ পর্যন্ত হাজ্জ্ব করেই যাচ্ছেন তো যাচ্ছেনই। বৃদ্ধার দু’আ করার বছর থেকে শুরু হয়েছে, আজ অবধি চলছে। গত ৩২ বছরে ৩২টা হাজ্জ্ব! কখনও এমনও হয়েছে যে হাজ্জ্বের মৌসুম শুরু হয়েছে কিন্তু তার হাতে প্রয়োজনীয় অর্থ নেই এমনকি হাজ্জ্বের নিয়তও নেই কিন্ত কিভাবে যেন কোন প্রস্তুতি ছাড়াই হাজ্জ্বের বন্দোবস্ত হয়ে গেছে। বৃদ্ধা’র দু’আর বরকত এখনো শেষ হয়ে যায়নি।
এখানে শিক্ষাটা হলো – আমাদের প্রত্যেকেরই উচিৎ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য বিশুদ্ধ নিয়তে সৎ-আমল করা। বিপদের মুহুর্তে কারো জন্য কিছু করতে পারাটা, তাদের উপকারে আসতে পারাটা পরম সৌভাগ্যের ব্যাপার। কখন কার দু’আ কিভাবে কবুল হয়ে যায় আল্লাহু আ’লাম।
.
- দু'আ কবুলের গল্পগুলো - বই থেকে নেওয়া একটি গল্প।

দুআ কবুলের গল্পগুলো
লেখক : রাজিব হাসান
প্রকাশনী : আযান প্রকাশনী

Write a review

Note: HTML is not translated!
    Bad           Good

1 Product(s) Sold
  • ৳250.00
  • ৳175.00
  • Ex Tax: ৳175.00

Tags: দুআ কবুলের গল্পগুলো